দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান যুদ্ধের অবসান হলে কিউবা নিয়ে নিজের উদ্বেগের বিষয়গুলো মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক নির্বাচনী সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। অঙ্গরাজ্যটিতে কিউবান-আমেরিকানরা গুরুত্বপূর্ণ ভোটারগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত।
ফোর্ট মায়ার্সে ৯০ মিনিটের ভাষণে ট্রাম্প আবারও ইঙ্গিত দেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক চাপে রয়েছে রিপাবলিকানরা। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণগুলো মোকাবিলার চেষ্টা করছেন তিনি।
ফ্লোরিডায় বসবাসকারী প্রবীণ আমেরিকানদের কথা বিবেচনায় নিয়ে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রবীণদের সেবাকেন্দ্রে অন্তত ৫ হাজার নতুন নার্স নিয়োগে ২৫ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
ইরান যুদ্ধের অবসানের কোনো স্পষ্ট সময়সীমা না থাকলেও কিউবা নিয়ে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাম্প। চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার নেতাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাঁর বক্তব্যকে তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ফ্লোরিডার কিউবান-আমেরিকান ভোটারদের ৬৮ শতাংশের সমর্থন পেয়েছিলেন ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি বলেন, ইরান থেকে দেশে ফেরার পথে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো কিউবার কাছে থামবে।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের একটি জাহাজকে উপকূল থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে থামাব। তারা হাত তুলে আত্মসমর্পণ করবে। এরপর চুক্তির বাকি কাজ শেষ করতে আমরা মার্কো রুবিওকে পাঠাব।”
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ফ্লোরিডার সাবেক সিনেটর। ট্রাম্প প্রশাসনের কিউবা-সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণের বড় একটি অংশ সামলাচ্ছেন তিনি।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রুবিও লেখেন, “যাঁরা কিউবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চান, তাঁদের জন্য এখনই সময়।” কিউবা সরকারের ওপর হতাশ ব্যক্তিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সিআইএর সঙ্গে গোপন অংশীদারত্বের মাধ্যমে আপনারা যে পরিবর্তন চান, তা আনুন।” তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
ট্রাম্পের এ সমাবেশের উদ্দেশ্য ছিল ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি বায়রন ডোনাল্ডসের নির্বাচনী সম্ভাবনা জোরদার করা। অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেভিড জোলির বিরুদ্ধে লড়ছেন ডোনাল্ডস।
সমাবেশে ট্রাম্পের বক্তব্যে বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। সমর্থকদের সমাগমের আকার থেকে শুরু করে হোয়াইট হাউসের সংস্কার—বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি। মূলত নিজের সমর্থকপ্রধান এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই নির্বাচনী সমাবেশ করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কিউবার ওপর চাপ বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কিউবাকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “কিউবায় স্বাধীনতা আসছে।” তাঁর এ বক্তব্যের প্রতিবাদে অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যায় কিউবার প্রতিনিধিদল।
কিউবার সরকারব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনাই তাঁর লক্ষ্য বলে প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা তেল অবরোধে তীব্র সংকটে পড়েছে কিউবা। দেশটি জ্বালানির ঘাটতি ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সঙ্গে লড়ছে। দুর্বল অবকাঠামোর কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা তেল অবরোধকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকিতে সাম্রাজ্যবাদী মনোভাবের প্রতিফলন ঘটছে।